
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কোন ভাবে থামছে না শুল্ক ফাঁকির মহাউৎসব। আর এর অন্তরালে রয়েছে কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম-১ ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজিরের (ভাই দাবিকারী-IRM) শাখার মাইদুুল ইসলাম-২। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারনে ৪ হাজার ৭ শ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
রাজস্ব ফাঁকির সব সিন্ডিকেট তাদের ইশারায় চলে, আর প্রশাসন যেন তাদের হাতের ময়লা। একেরপর এক পণ্য চালান আটক,লোপাট,আত্মসাৎ,কাগজপত্রবিহীন পণ্য প্রবেশ প্রমাণ করে দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা আর সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে ডুবতে বসেছে বেনাপোল বন্দর। বর্তমান কাস্টমস ও বন্দরের দুর্নীতির চিত্র করোনা ভাইরাসকেও হার মানিয়েছে। ফলে বিগত অর্থ বছরে বিপুল পরিমান রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুর্নীতি চক্রের মূল হোতাদের মধ্যে রয়েছেন কাস্টমসের কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুুল ইসলাম-১ এবং আইআরএম (ওজগ) টিমের মাইদুল ইসলাম-২। এর মধ্যে মাইনুল ইসলাম-২ সরাসরি নিজের টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ভাষ্যমতে, মাইনুল-২ তার ভাইয়ের ঢাকার হার্ডওয়্যার ব্যবসার সুবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মাধ্যমে পণ্য আনেন। যেহেতু তিনি নিজেই পণ্য পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তাই সেখানে অনিয়ম করা সহজ হয় সম্প্রতি একটি খৈলের গাড়ির চালানে অনিয়মের সাথেও তার নাম বেরিয়ে এসেছে।
একেই সাথে দুই কর্মকর্তার যোগসাজসে এস এ ট্রেডার্স,প্রত্যায় ইন্টারন্যাশনাল,হুদা এন্টারপ্রাইজ,কদর এন্ড কোং,ওমর এন্ড সন্স এবং নিরা এন্টাপ্রাইজ, ওভারসীস ট্রেডিং করর্পোরেশন, ব্রাদার্স এক্সিম লিমিটেড,সোনালি সিঅ্যান্ডএফ লি:, রিমু এন্টারপ্রাইজ, করিম এন্ড সন্স, সার্ভিস লাইন, মেসার্স আলতাফ এন্ড সন্স, পেরেন্টস ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস সেন্টার নামীয় বিভিন্ন কনসাইনমেন্ট কোটি কোটি ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে ছাড় পেয়েছে। এই দুই কর্মকর্তার স্বক্ষরকৃত ফাইল টান দিলেই বেরিয়ে আসবে দুর্নীতির চিত্র।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম-১ এর বন্ধু প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট পরিচয়দানকারী বগুড়ার হিরু এ শুল্ক ফাঁকি চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে মাইদুল কাওকে পরোয়া করে না। গত ১২ মার্চ ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় দামী শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার এবং বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী আটক পণ্য লোপাটের ঘটনায় মাইদুল গং জড়িত থাকলেও কাস্টমস তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেইনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম-১ এবং বন্দরের আশিকুর রহমান রনি একই এলাকার হওয়ায় তারা ওজনে কারচুপি ও জাল নথিপত্র তৈরি করে পণ্য খালাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। রনি ও মাইদুলদের এই সিন্ডিকেটকে স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রতন পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দরের এই অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাস্টমস হাউজ থেকে রাতের আঁধারে ৩ কোটি টাকার পণ্য পাচারের ঘটনায় বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি। এছাড়া গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হন কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার। এসব ঘটনা ঘটলেও অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, আশিকুর রহমান রনি বর্তমানে বন্দরের প্রধান কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চোরাচালান নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ তৈরি করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। তার ছত্র ছায়ায় বন্দরের স্কেলের ট্রাক প্রতি ঘুসের হাট বসেছে আর টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছে ট্রাফিক পরিদর্শক জাবেদি বিল্লা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিবেশ ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল-১ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।















