বৈষম্য দূরীকরণ, স্বচ্ছতা ও দক্ষ রাজস্ব আহরণে এগিয়ে যাচ্ছে এনবিআর

মোঃ মাহাবুবুর রহমান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আহসান হাবিবের নেতৃত্বে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ এবং ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কমিশনারেট, বিভাগীয় দপ্তর ও সার্কেল কার্যালয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে আগের তুলনায় রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি অধিক মনোযোগের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকেও রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির স্বার্থে প্রতিটি বিভাগীয় দপ্তর ও সার্কেল কার্যালয় সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমে নজরদারি, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়তা হতে পারে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৮ আগস্টের রাজস্ব সম্মেলন ও পরবর্তী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় বৈষম্য পরিহার এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোদের বিষয়ে আইনানুগ পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।

এনবিআরকে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী—সবার জন্য সমান আইনগত মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে এনবিআর আরও গতিশীল হবে এবং রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈষম্য বা অবিচারের শিকার হবেন না।