
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে চলছে জোর প্রতিযোগিতা। দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি যাবে কার হাতে সেই দিকেই এখন নজর সবার। এমন সময় এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর এক বিস্ফোরক বক্তব্যে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন আজকাল বিভিন্ন গ্রুপ ১শ-দেড়শ কোটি টাকা দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নির্বাচন করার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে। বিরোধী দলীয় এই নেতার বক্তব্যের রেস না কাটতেই সামনে এলো এনবিআর চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বাণিজ্যের এক বিরাট অভিযোগ। আর এই অভিযোগের তীর ছুটেছে এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ১৩ তম বিসিএসের ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এনবিআরের এই সদস্যের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এনবিআরের চেয়ারম্যান বা সচিব পদে পদন্নতির জন্য এক সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই সম্মতিপত্রের সঙ্গে ৩শ কোটি টাকা লেনদেনের একটি চুক্তিপত্র পাওয়া গেছে। যেখানে সাক্ষির স্থানে রয়েছেন এই এনবিআর সদস্যের স্বাক্ষর। এনবিআরের এই সদস্য সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করলেও, আর্থিক লেনদেনের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, একটি পক্ষ তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এ বিষয়ে। তবে তিনি
স্পষ্ট জানিয়ে দেন এমন কোন চুক্তিতে তিনি স্বাক্ষর করবেন না। এমনকি আর্থিক লেনদেন করে পদ নেয়ার ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এনবিআরের এই সদস্য আরও দাবি করেন, সারাজীবন সততার সাথে কাজ করে গেছেন। এতো টাকা দেয়ার সামর্থ তার নেই।
তিনি সায় দেননি। তবে যে বা যারা তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই চুক্তি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলীয় এক নেতার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর এই সম্মতিপত্র ও বিপুল পরিমাণ অংকের লেনদেনের চুক্তিপত্রে সাক্ষি হওয়ার ঘটনায় জন্ম দিয়েছে নতুন নতুন প্রশ্নের। তবে কি স্বচ্ছতার জল আজ ঘোলা হয়েছে দুর্নীতির রংয়ে।













