এসপিএম টেন্ডার ঘিরে নতুন বিতর্ক

ফ্যাসিস্ট লুটেরা আওয়ামী সরকারের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা এবং নসরুল হামিদ বিপুর যৌথ প্রযোজনায় যে ক’টি আলোচিত দুর্নীতি-কেলেঙ্কারির জন্ম দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা জ্বালানি তেল পাইপলাইন নির্মাণ কেলেঙ্কারি। চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে জাহাজ থেকে সরাসরি ক্রুড ওয়েল স্থানান্তরের জন্য একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা পাইপলাইন প্রকল্পের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। প্রকল্পটির প্রথমে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৯শ’ ৩৬ কোটি টাকা। একাধিকবার সংশোধনের পর এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৩শ’ ৪১ কোটি টাকা। কিন্তু দফায় দফায় ব্যয় বাড়ানো হলেও যথাযথ মান অনুযায়ী পাইপলাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যহত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলের হাসিনা-বিপুর এই মহাদুর্নীতি-লুটপাট চাপা দিতেই উঠেপড়ে লেগেছে এখনকার জ্বালানি মন্ত্রণালয়। একই দুর্নীতিবাজ চীনা কোম্পানিকে ওএন্ডএম ঠিকাদার নিয়োগের পাঁয়তারা চলছে, তাও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। যে ভয়াবহ অনিয়মের মধ্য দিয়ে ওএন্ডএম বা অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এর নজির অতীতে নেই। এরসঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। অপারেটর নিয়োগের ভয়াবহ এই দুর্নীতি-অপকর্মে বিএনপি সরকারকে জড়ানোয় এই দুই কর্মকর্তা মূল ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ছিল জাতীয় নির্বাচনের তারিখ। এই তারিখটিকে টার্গেট করেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর অপারেশন এবং মেনটেইনেন্স ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় নির্বাচনের পাঁচ দিন পর, মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিন। এটা সবারই জানা কথা, বাংলাদেশে এই নির্বাচনটা ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত ছিল। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। নানা অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের নামকরা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি দল পাঠাতে পারেনি। এ কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। অথচ এই সময়টিকেই বেছে নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিপিসি ও বাইরের দুর্নীতিবাজচক্র। ওএন্ডএম অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ১১টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। কিন্তু নির্বাচন পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে কোম্পানিগুলো নতুন সরকার গঠনের পরে কোনো একদিন দরপত্র গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করার অনুরোধ করেছিল। তাতে কর্ণপাত করেননি জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম ও বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অপারেটর নিয়োগের দরপত্রে অংশ নিতে না পারে এজন্যই পরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচনের সময়টাকে বেছে নেওয়া হয়। হাসিনা-বিপু সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ চক্রের সঙ্গে এই দুই কর্মকর্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম ও বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান- দুজনই কট্টর জামায়াত ঘরানার এবং নিজেদের সৎ কর্মকর্তা বলে দাবি করে থাকেন। কিন্তু এদের হাত দিয়েই সংঘটিত হচ্ছে জ্বালানি খাতের বড় বড় দুর্নীতি-অপকর্মগুলো। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি দুর্নীতিবাজচক্রের সঙ্গে বড় অংকের লেনদেনে বোঝাপড়া করেই জাতীয় নির্বাচনকে দরপত্রের সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন এই দুই কর্মকর্তা। এবং এখন এর সঙ্গে জড়িয়েছেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০২২ সালে, কিন্তু প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি
জানা গেছে, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্মাণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় বাস্তবায়নকাল তিন দফায় ৪ বৎসর বাড়ানো হয়। কিন্তু ২০২২ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ সরকারকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে একাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে গিয়ে নির্মাণকাজে ত্রুটির কারণে তা ব্যর্থ হয়। ২০২৩ সালে প্রকল্পটি প্রথমবার পরীক্ষামূলক চালু করতে গিয়ে সফল হয়নি। ২০২৪ সালের ২৪ জুন দ্বিতীয়বার আরব থেকে আগত ৮২০০০ টন জাহাজের ক্রড অয়েলের পরীক্ষামূলক খালাসের সময় ৪-৫ ঘণ্টা পরেই পাইপলাইনের লিক পরিলক্ষিত হয় এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়তে থাকে যার ফলশ্রুতিতে এই প্রকল্পের গুণগত মান ও সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। প্রকল্পটির এখনও আনুমানিক ৬০-৭০ কোটি টাকার নির্মাণ ও সংশোধনমূলক কাজ বাকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের সংশোধনমূলক সকল কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্টও (PCR) এ পর্যন্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ যারা সম্পন্ন করেছে তারাই তাদের অসমাপ্ত এবং নিম্নমানের কাজ নিজেদের মধ্যে চাপা দিয়ে রাখার জন্যই জ্বালানি সচিব ও বিপিসি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে PCR ছাড়াই পুনরায় অপারেশন ও মেইন্টেনেন্সের দায়িত্ব বাগিয়ে নিতে চাইছে। আর এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পিসিআর (প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট) চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রকল্পের অপারেটর নিয়োগের দরপত্র আহ্বানের সুযোগ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটিই করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি। অর্থাৎ কোনো নিয়মনীতিই এই দুর্নীতিবাজচক্র মানছে না। পিপিআরেরও চরম লঙ্ঘন এটি।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রতিযোগিতা সীমিতকরণ
দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য মোট ১১টি বিদেশি কোম্পানি দরপত্র ক্রয় করে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যেকটিই ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রি-বিড মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, উক্ত সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের একটি সংবেদনশীল ট্রানজিশন পিরিয়ড অতিক্রম করছিল। অথচ এই সময়টিকেই দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। যদিও ১৫ জানুয়রি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই সময়ে ভিসা-অন-এরাইভাল বাংলাদেশ সরকার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। ইউরোপের দেশগুলোও তাদের নাগরিকদের চলাচলের ওপর ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে একই সময়ে।

কিন্তু অসাধু চক্রটির স্বার্থ রক্ষার্থে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বিপিসি সময় পেছানোর অনুরোধে সাড়া না দিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা অপরিবর্তিত রাখে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যেদিন জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়, এরকম একটি স্পর্শকাতর দিনে দরপত্র গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, পৃথিবীতে নেদারল্যান্ডসের খ্যাতনামা কোম্পানি স্মিত ল্যামনালকো দুই সপ্তাহ সময় বৃদ্ধির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল। একইভাবে, মিশরের মেরিডাইভ কোম্পানির পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাসও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির জন্য চিঠি প্রদান করেছে। তবুও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বিপিসি এসব অনুরোধে সাড়া না দিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা অপরিবর্তিত রেখেছে। বস্তুত, যে ঠিকাদারী কোম্পানি প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে, তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে অপারেটর নিয়োগের এই টেন্ডারে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে ইন্দোনেশিয়ার পারতামিনা, চীনের সিপিপি এবং হিলং এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প তিন বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় দরপত্র জমাদানের সময় মাত্র দুই সপ্তাহ বর্ধিত করা হয়নি, যা অবাক করার মতো ঘটনাই বটে!

যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে দরপত্রের প্রহসন চলছে, তিনটিই বিতর্কিত
জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের মুহূর্তে যে তিনটি প্রতিষ্ঠান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দরপত্রে অংশ নিয়েছে প্রত্যেকটিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত।

পার্তামিনা (Pertamina): নামে ইন্দোনেশিয়ার এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি নিজ দেশেই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত। তারা তাদের দেশীয় এজেন্ট ইন্ট্রাকো গ্রুপের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে। ইন্ট্রাকো গ্রুপের মালিক রিয়াদ আলী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিগত সরকারের আমলে তারা বিনা দরপত্রে স্পেশাল অ্যাক্টের মাধ্যমে ভোলা গ্যাস ট্রান্সফার প্রজেক্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল। তারা পূর্বেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই কাজটি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং আবারও একই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তির জন্য মোটেও শুভ ফল বয়ে আনবে না, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিলং (Hilong): চীনা তেল-গ্যাস কোম্পানি হিলং সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোএসএ (PetroSA)-এর সাথে একটি অস্বচ্ছ ফান্ডিং কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

সিপিপি (China Petroleum Pipeline): অপারেটর নিয়োগের এই দরপত্রে অংশ নেওয়া হাসিনা-বিপুর ঘনিষ্ঠ চীনা কোম্পানি সিপিপি’র অতীত ইতিহাস ব্যর্থতা, অনিয়ম-অপকর্মে ভরা। বাংলাদেশে এসপিএম বা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং নির্মাণ কেলেঙ্কারির মূল নায়ক চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই সিপিপি। এর আগে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বিনা টেন্ডারে মূল এসপিএম প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল কোম্পানিটি। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। নানা অনিয়ম-অপকর্মের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থের ভাগবাটোয়ারা হয়েছে হাসিনা-বিপু সিন্ডিকেট ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিপির মধ্যে। এর মাঝে মধ্যস্বত্বভোগী দুর্নীতিবাজচক্রও জড়িত ছিল তখন। হাসিনা-বিপু ঘনিষ্ঠ একই দুর্নীতিবাজচক্র অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ভর করে এখন এ সরকারের ওপরও এসেছে। এদের সুদূরপ্রসারী কারসাজির অংশ হিসেবেই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে অপারেটর ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়।
চীনা এই প্রতিষ্ঠান সিপিপি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন প্রজেক্ট বাতিল হয়েছে। সূত্রগুলো আরো জানায়, সিপিপি কোম্পানিটি ইপিসি সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ হলেও এসপিএম অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রমাণিত অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে পারেনি- যা এ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। এছাড়া চীনা এই কোম্পানি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোএসএ- এর সাথে একটি অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত ফান্ডিং কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। কোম্পানিটি বাংলাদেশের বিতর্কিত সামসুল আলামিন (কাজল) ও এনায়েত উল্লাহ খান-এর গ্রুপের সাথে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী, এই ধরনের মেগা প্রকল্পে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে সাধারণত অপারেশন ও মেইন্টেনেন্সের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের অপারেশনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই, যা এক্ষেত্রে অপরিহার্য। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যেখানে নির্মাণ কাজই যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি, অথচ তাদেরই এখন নতুন করে অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এটি মূলতঃ হাসিনা-বিপুর দুর্নীতি চাপা দেওয়া এবং নতুন দুর্নীতিতে জড়িত হওয়া ছাড়া কিছুই নয়, আর এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ছেন বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী।