
বিআরটিএর উত্তরা দিয়াবাড়ি কার্যালয়ে (ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩) ফিটনেস শাখাকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নিয়মমাফিক কাজ করতে গেলেও সেখানে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, অন্যদিকে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিলে সহজেই মিলছে ফিটনেস সনদ।
অনুসন্ধানে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
টাকার বিনিময়ে ফিটনেস: ভুক্তভোগীদের দাবি, গাড়ির ফিটনেস সনদ পেতে দালাল চক্রের মাধ্যমে এক হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করতে হয়।
কার্যালয়ে দালালের মহড়া: অফিস চলাকালীন সময়েই কার্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যেই দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ে। তারা গ্রাহকদের দ্রুত ও সহজে কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের সনদ লাভ: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মের তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে অনেক আনফিট বা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকেও ফিটনেস সনদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
ভীতি ও নীরবতা: হয়রানির শিকার হলেও অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। গ্রাহকদের আশঙ্কা, অভিযোগ করলে পরবর্তীতে তাদের ফাইল আটকে দেওয়া হতে পারে বা গাড়ির প্রয়োজনীয় কাজ পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হবে।
এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের নাম উল্লেখ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন:
“আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
ভুক্তভোগীদের দাবি
সাধারণ দূরপাল্লা ও স্থানীয় পরিবহন মালিক এবং চালকদের দাবি—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন কেবল লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করে, নিজস্ব গোয়েন্দা বা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এই কার্যালয়ে একটি নিরপেক্ষ ও আকস্মিক তদন্ত পরিচালনা করে। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।















