গাজীপুরে কর কর্মকর্তার সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক: দুদক ও এনবিআরের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো

গাজীপুর কর কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত এক অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার খাইরুল ইসলাম এর বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, চাকরি জীবনের তুলনায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাব ও নিজ এলাকার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন, আবাসিক সম্পত্তি এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লটসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিকানা তার পরিবারভুক্ত ব্যক্তিদের নামে বেনামে রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়নি বা সরকারি কোনো নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে তার ঘুষ ও দুর্নীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয় ও সম্পদের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দায়িত্ব এনবিআরের। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এনবিআর নীরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিশেষ মহলের মতে, দুর্নীতির সঙ্গে তিনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকতে পারেন। তারা আরও দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সম্পদের উৎস, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির নথিপত্র যাচাই করা হোক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে গাজীপুর কর কমিশনার হাসিনা আক্তার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি আমার অবগত নয়। তবে বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।” কমিশনার হাসিনা আক্তার খানের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মচারী জানান, তিনি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

এই দুর্নীতির বিষয়ে সুশাসন ও জবাবদিহিতা বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে যদি অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, কর ফাঁকি বা অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
একজন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে একাধিকবার পত্র-পত্রিকায় অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।