এনবিআর আন্দোলন ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান, ১৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মেলেনি অবৈধ সম্পদের প্রমাণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এনবিআর ও দুদকের একাধিক সূত্রের দাবি, আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি তালিকা দুদকে পাঠানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই শেষে বর্তমানে এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুদক।
দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানের আওতায় থাকা সবাই সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এসব তথ্য-উপাত্ত এখনও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে একজন কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদবিরের অভিযোগও রয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়কর নথির সঙ্গে সম্পদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না থাকা সম্পদের তথ্য সংগ্রহে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের ব্যাংক হিসাবও সাময়িকভাবে জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের স্বজনদের সম্পদের তথ্যও তলব করা হতে পারে।

বর্তমানে যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সদস্য এম এম ফজলুল হক, এ কে এম বদিউল আলম, মো. লুৎফুল আজীম, মো. আলমগীর হোসেন, কাস্টমস কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, সদস্য (টেকনিক্যাল) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, হাছান তারেক রিকাবদার, সাধন কুমার কুণ্ডু, অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, মির্জা আশিক রানা, সেহেলা সিদ্দিকা, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, তারেক হাসান, উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম, মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা এবং আয়কর কর্মচারী লোকমান আহমেদ। এদের মধ্যে কয়েকজনের দেশত্যাগেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ গঠনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১২ মে সরকার অধ্যাদেশ জারি করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের অভিযোগ, এনবিআর সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের দাবি, তারা এনবিআরকে বিভাগের পরিবর্তে স্বশাসিত রাজস্ব সংস্থা হিসেবে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাজস্ব নীতিনির্ধারণের জন্য পৃথক ‘পলিসি উইং’ গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে খসড়া অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনে কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সচিব পদে নিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়, যা প্রশাসন ক্যাডারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছে।

তাদের ভাষ্য, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাজস্ব প্রশাসন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়। তাই বিভাগভিত্তিক নতুন কাঠামো রাজস্ব প্রশাসনের কার্যকারিতা, স্বাধীনতা ও দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।