
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে শত কোটি টাকা অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রেফতারি পরোয়ানা পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও তিনি পাবনা কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন; কিন্তু পুলিশ তাকে ‘খুঁজে পাচ্ছে না’! আর বিআরটিএ বা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আলতাব হোসেনের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুদক কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে আলতাব হোসেন ও তার স্ত্রী জিয়াসমীন আরার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ সাব্বির ফায়েজের আদালত তাদের ১৭টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এছাড়া গত ২০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আলতাব ও তার স্ত্রীর নামের সম্পদের পাহাড়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকার গুলশানসহ অভিজাত এলাকা এবং ফরিদপুরে তাদের ১৭টি প্লট, বাড়ি ও জমির সন্ধান পেয়েছে দুদক। কাগজপত্রে গুলশানের একটি বাড়ি ও প্লটের মূল্য মাত্র ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা দেখানো হলেও বর্তমান বাজারমূল্য অনেক টাকা। একইভাবে স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তিরও বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা।
সন্তানদের ও বেনামের সম্পত্তি রয়েছে এর বাইরেই।
মামলা, সম্পত্তি ক্রোক এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত বা প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা থাকলেও বিআরটিএ ও মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গত ১৪ মে আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। অথচ পাবনা পুলিশের নাকের ডগায় কর্মস্থলে নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না, আর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষও সবকিছু জেনে না দেখার ভান করে বসে আছে। এ বিষয়ে বিআরটিএ’র পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদিক- কে হুমকি দেন।















