এনবিআরের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঘিরে আন্দোলন ও পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পৃথকভাবে যাচাই করে আইনগত প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. সালেক খান, এনবিআরের সেকেন্ড সেক্রেটারি সৈয়দা নাসরিন আক্তার লুনাসহ আরও কয়েকজনের বিষয় সামনে এসেছে। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

চেয়ারম্যানের উদ্যোগে সমাধানের প্রত্যাশা

এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নেতৃত্বে এসব বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের নথিপত্র পুনরায় পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা হোক।

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে অভিযোগ, তদন্তের ফলাফল, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং অবসরের আদেশের আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তাঁরা।

সরকারি চাকরি আইনের ধারা ৪৫ যাচাইয়ের দাবি

বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরের বিধান প্রয়োগের প্রয়োজনীয় আইনগত শর্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।

একই সঙ্গে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ বর্ণিত আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং অনুচ্ছেদ ১৯-এ উল্লেখিত সুযোগের সমতার নীতিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে, প্রতিটি সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পুনর্বিবেচনা ও পুনর্বহালের সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান

বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আদেশ পুনর্বিবেচনা, সংশোধন বা প্রত্যাহারের আইনগত সুযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে আইন ও বিধি অনুযায়ী কারও পুনর্বহাল বা পুনরায় নিয়োগের সুযোগ থাকলে সেটিও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুকম্পা বা বিশেষ সুবিধার পরিবর্তে নথিপত্র ও প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আইনগতভাবে প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। তাঁদের মতে, নথিপত্র ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট হবে। এতে ন্যায়বিচার ও সমতার নীতিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তাই কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং আইন, ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিকতার আলোকে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।