নিখোঁজের ১০ দিন পর ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কমলাপুর কাস্টম হাউসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার (৪০)-এর ১৫ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে চারটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলার ভেতর থাকা মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রায়হান সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কমলাপুর কাস্টম হাউসে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন রায়হান। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই দিন পর সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি কর্মস্থলে পৌঁছাননি। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ২৭ জুলাই তাঁর বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রাজু ও জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহ করছে পরিবার।

পরিবার জানায়, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর রায়হান একাই থাকতেন। ঢাকায় চাকরি করলেও প্রায় প্রতি সপ্তাহে বৃদ্ধ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। রাজুকে বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং তাঁর পড়াশোনার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন।

এর আগে শুক্রবার উপজেলার অনন্তপুর এলাকার বাজুয়া নদী থেকে ডুবুরি দল রায়হানের ব্যবহৃত একটি চাবির রিং উদ্ধার করে।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়। কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।