ভূমি দখল মামলার আসামি ডেসকো এমডির চুক্তি বাড়াতে বোর্ডের সুপারিশ

ডেসকোতে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ট সহচর, জুলাই বিপ্লব বিরোধী ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি এবং ভুমি দখলের অভিযোগের আসামি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদকে নতুন করে চূক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিতে ডেসকো বোর্ড সভায় অনুমোদন ।

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি, বিগত কয়েক বছর সরকারী প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে আছে, যার মূলকারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ব্যাপক লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও প্রতিষ্ঠানটিতে পরিবর্তনের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। টপ লেবেলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত বোর্ডের সুপারিশের আলোকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪৮৮তম সভার সুপারিশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ প্রাথমিকভাবে যোগদানের তারিখ হতে ০২ (দুই) বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও তিনি ডেসকো কর্তৃক এমডি নিয়োগ তালিকায় শর্ট লিস্টে ছিলেন না।বিশেষ তৎবিরের মাধ্যমে তার নিয়োগ।

এমডি শামিমের নামে জোরপূর্বক ভূমিদখল ও জালিয়াতি মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় সিআর ০৬/২৫ -৪০৬, ৪২০ ধারায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী । সি আর মামলা নং -৬৬৮/২৪ এবং৯০২/২৪ যাহা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ডেসকোতে যোগদানের পরেই তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট পতিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট সহচর, জুলাই বিপ্লব বিরোধী এবং গুপ্ত সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ে তাহার নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজেও অ্যাসিউর গ্রুপের (আবাসন) সিইও থাকা অবস্থায় ভূমিদস্যুতা ও দখলদারিত্ব করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিরীহ সাধারণ ও বিএনপিপন্থীদের ভূমি দখল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাহার ভূমি দখল নিয়ে Asian TV তে ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এবং সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় “ঠিকানা” অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ কে একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন , তিনি কিভাবে ডেসকো এমডি হয়েছেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয় টকশোতে! তিনি বিগত আওয়ামী সময়ের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্থ কট্টোর আওয়ামী লীগ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, জুলাই বিপ্লব ধারণকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদের নানাভাবে কোণঠাসা করা, পদোন্নতি বঞ্চিত করা, ফ্যাসিস্টদের নিজ উদ্যোগে পদোন্নতি প্রদান, মন্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে ০৪ জন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি এবং ‘Oculin Tech BD Ltd’ ও ‘Smart Prepaid Meter এর সফটওয়ার’ সরবরাহের চুক্তির ১ম ধাপে ১৬৭কোটি টাকার চুক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়তে বাড়তে সেটা ৩৮৫ কোটিতে ঠেকিয়েছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য/সেবা সরবরাহ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত না করেই ৮০% টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো বিগত ফ্যাসিস্ট পতিত সরকারের ঘনিষ্ট সহচর ও জুলাই বিপ্লব বিরোধীরা মিলে ডেসকোর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর সাথে যোগসাজশ করে Oculin Tech BD Ltd কাজ না করেও টাকা উত্তোলন করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সবাই বিদেশে পলাতক আছে জানা যায়। ডেসকোতে ফ্যাসিস্ট পতিত আওয়ামী সরকারের আমলের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বর্তমানে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌঃ মোঃ রশিদুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক (সংগ্রহ) প্রকৌঃ জুলফিকার তাহমিদ, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মঈনদ্দিন খান, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনজুরুল হক, প্রধান প্রকৌশলী (আইসিটি) আব্দুস ছালাম, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান যার নেতৃত্বে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল ডেসকো, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান, এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে মুখ্য সচিব বরাবর যা তদন্ত পর্যায়ে আছে।
অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে পুরনো ডেসকো প্রশাসন চুক্তির উপর চলছে। দেশে নতুন কোন প্রকৌশলী জন্ম নেয়নি বা নিচ্ছে না সব চলছে চুক্তির আওতায়!
এর মধ্যেই ড. মো: সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, চেয়ারম্যান, ডেসকো বোর্ড ও সচিব (অব:), সভাপতির নেতৃত্বে ৩১/০৮/২০২তা: সোমবারবিকাল ০৪:৪৫ ঘটিকায় এমডির ২ বছর চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে বোর্ড সভায় অনুমোদন দেই। সেই বোর্ডে তিন জন অতিরিক্ত সচিব ও অন্যান্য সদস্য বৃন্দের উপস্থিতিতে বোর্ড সভায় অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রালয়ে প্রেরণ করলে শুরু হয় কানাঘোষা! কিসের ভিত্তিতে আবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি কেউ মেলাতে পাড়ছে না।

সরকার বিএনপি র হলেও এখোনো প্রায় জায়গায় ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তারা মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। সরকারের ভালো আচরণকে তারা দুর্বলতা ভেবে নিজেদের অবস্থান আরো মজবুত করতে সচেষ্ট রয়েছে ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তারা। যে ব্যক্তি ডেসকোর এমডি হয়েছে লবিং করে ছিল ফ্যাসিস্ট আমলের কর্মকর্তা, তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বৃদ্ধি করা মানে পাইপ লাইনে থাকা যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা ছাড়া কিছু না।