মামলার দফাওয়ারি জবাব না দেওয়ায় ভোগান্তিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় আদালতে দফাওয়ারি জবাব না দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাঁদের অভিযোগ, বিগত বছরের এনবিআরের ঐক্য পরিষদের আন্দোলনের জেরে কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারী ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, হয়রানি ও বাধ্যতামূলক অবসরের শিকার হয়েছেন। এসব বিষয়ে ২০২৫ সালে আদালতে মামলা করা হলেও একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ জবাব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতে মামলার দফাওয়ারি জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সময়মতো দাখিল না হওয়ায় মাসের পর মাস শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করা হয়। তাঁদের দাবি, আদালতের নোটিশ ও মামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও গড়িমসির অভিযোগ ছিল।

বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব আহসান হাবিবের আমলেও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দফাওয়ারি জবাব আদালতে দেওয়া হয়নি কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে জবাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না হলে মামলার শুনানি পিছিয়ে যেতে পারে। ফলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়মতো আদালতে প্রয়োজনীয় নথি ও জবাব দাখিল করা জরুরি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।