
বেনাপোল বন্দর দিয়ে গতকাল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ১ হাজার ৯২৯ জন পাসপোর্টধারী। এ সময় ভারতের সঙ্গে ৩৫৪ ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারীদের যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া গেছে ৭৮ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপির বিনিময়ে পাওয়া গেছে বাংলাদেশি ১২৬ টাকা। প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১১টায়।
বুধবার দিনভর ভারত থেকে ৩০১ ট্রাকে পণ্যের আমদানি বাণিজ্য হয়েছে। এসব আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প-কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ দ্রব্য, ট্রাক চ্যাসিস, কমলা, আঙুর, আনার ও মাছ।
একই দিনে বাংলাদেশি ৫৩ ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা, মাছ ও ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হয় না।
বন্দরের তথ্য বলছে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতা-সহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকায় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণ পণ্যের ট্রাকপ্রতি ভাড়া ছিল ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা এবং পচনশীল পণ্যের ভাড়া ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে সাধারণ পণ্যের ভাড়া ২৯ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং পচনশীল পণ্যের ভাড়া ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় আমদানি, রফতানি ও পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত ৭০ শতাংশ কমে এসেছে। দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে বাণিজ্যের পরিমাণ ও রাজস্বের ঘাটতি বেড়ে চলেছে।
দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা ওঠেনি। পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বাণিজ্য সহজ হবে এবং গতি ফিরবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত শুরু হয়। একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণ করতে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে যাত্রীদের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়। ৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার আক্রান্ত, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমণ কর মাত্র ৬১ টাকা।
এ ছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভ্রমণ কর হিসেবে ৪০০ রুপি এবং বিদেশিদের ৮০০ রুপি দিতে হচ্ছে।
বুধবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। তাঁদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছেন ১ হাজার ১১১ জন। এসব যাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশি ৮৭৩ জন, ভারতীয় ২৩৫ জন এবং অন্যান্য দেশের ৩ জন।
এদিন ভারত থেকে ফিরেছেন ৮১১ জন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬৫০ জন, ভারতীয় ১৫৫ জন এবং অন্যান্য দেশের ৬ জন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত কমে যায়। এ ছাড়া গত বছর এর আগের বছরের তুলনায় ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পাসপোর্টধারীর যাতায়াত কমেছে। তবে সম্প্রতি ভিসার ওপর বিভিন্ন শর্ত তুলে নিয়ে যাতায়াত সহজ করেছে দুই দেশ। যাত্রী যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা-আগরতলা যাত্রীবাহী বাস ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২৮ জুলাই থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া শুরু করায় যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মোটরস নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি করছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে খুব দ্রুত রেল চলাচল চালু হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি। এতে আবারও ভ্রমণ খাতে গতি ফিরবে।















