
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা চার দফা বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত করা হলেও রিটার্ন জমা দেওয়ায় প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছালেও রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার। ফলে, নিবন্ধিত করদাতার মাত্র ৩৮ শতাংশ রিটার্ন দাখিল করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোভিড-১৯ মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময়কাল ২০২১-২২ অর্থবছর বাদ দিলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের হার গত প্রায় এক দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এবং রিটার্ন জমা পড়েছিল প্রায় ৪৫ লাখ। এক বছরের ব্যবধানে টিআইএন ও রিটার্নদাতার সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও কর-অনুগত্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
যদিও রিটার্ন জমার হার প্রত্যাশিত না হলেও আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
এছাড়া, রাজস্ব আদায়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর। যেখানে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ছিল। গত অর্থবছরের রাজস্ব আদায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরের এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।
করপোরেট খাতেও ব্যক্তিখাতের মতো একই চিত্র দেখা গেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএনের বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৬৫৯।
করবিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আয়কর আইনের বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিধান কার্যকর হলে কর-অনুগত্য বাড়বে। এছাড়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক ঋণ, ঋণপত্র (এলসি) খোলা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র নিশ্চিত করা গেলে আরও বেশি মানুষ রিটার্ন দিতে উৎসাহিত হবেন।















