বাংলাদেশ কাস্টমসে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেটে না রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীনস্থ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কিছু কর্মচারীকে নিয়মিত বদলির আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আইনবিধি মোতাবেক বদলির আদেশ হওয়া সত্বেও তা হচ্ছে না-

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, কাস্টমস কমিশনারেট, ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটসহ এনবিআরের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কাস্টমস সিপাই, সাব-ইন্সপেক্টর এবং অন্যান্য তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই বছরের পর বছর, এমনকি কর্মচারী যুগের পর যুগ একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকার ফলে সরকারি রাজস্ব স্বার্থের সংঘাত, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায়ী মহলের একাংশের অভিযোগ, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায়ী সেবার মান, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি চাকরিতে নিয়মিত বদলির নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো কর্মচারী যেন দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সে বিষয়ে আইন, বিধি ও প্রশাসনিক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। আন্তঃকমিশনারেট বা আন্তঃদপ্তর বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট মহল বলেছে, রাজস্ব প্রশাসনে গতিশীলতা, নিরপেক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কমিশনারেট ও দপ্তরে বদলির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও ব্যবসায়ী মহল মনে করেন-তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।