
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসন ও হোটেল প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের পরও এক দশক পেরিয়ে নির্ধারিত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্লট, হোটেলের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১০ সালে ‘সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন’ প্রকল্পে প্লট বিক্রির ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তিতে টাকা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালের মধ্যে অধিকাংশ ক্রেতা পুরো মূল্য পরিশোধ করলেও ২০২৬ সালেও অনেকেই নির্ধারিত প্লট বুঝে পাননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, নামজারি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তিতে উল্লেখিত প্লটের পরিবর্তে অন্য মৌজার জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বিজ্ঞাপনে দেখানো আধুনিক আবাসন, পরিকল্পিত অবকাঠামো কিংবা নাগরিক সুবিধার তেমন কোনো বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের বড় অংশ এখনো কৃষিজমি হিসেবে রয়েছে বলে জানা গেছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ‘সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা’ এবং ‘সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক’ প্রকল্প নিয়েও। বিনিয়োগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হয়নি, সাব-কবলা বা মালিকানা দলিলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই জমির শেয়ার একাধিক প্রকল্পে বিক্রির অভিযোগও করেছেন তারা।
কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সবুজ হোসাইন বলেন, আইনগত অনুমোদন ছাড়া এভাবে সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট জমির ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প পরিচালনা প্রতারণার শামিল হতে পারে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সেঞ্চুরি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানের ডিজিএম তৌফিক চৌধুরী অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় জানান, তিনি অসুস্থ এবং মৃত্যুর আগে মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে চান।














