পূর্ব কাস্টমস ভ্যাট কমিশনারেটে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পূর্ব কমিশনারেটের ডেমরা বিভাগ, কোনাপাড়া সার্কেলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডেমরা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি জিলাইকা তামান্না লিপি) এবং অধীনস্থ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে—এমন তথ্য বিশেষ সূত্রের বরাতে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আহমেদ স্টিল অ্যান্ড কেবলসের উৎপাদন ও ভ্যাট তথ্য

ডেমরার পাইটি এলাকায় অবস্থিত আহমেদ স্টিল অ্যান্ড কেবলস (হাউস নং ১১/২, পাইটি ডেমরা, ঢাকা), রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০০৩৭৪৩৬০৯-০৩০৭, মূলত তালা উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন আনুমানিক ২০,০০০ (বিশ হাজার) পিস তালা উৎপাদন এবং প্রায় ৪০০ কাটুন বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে বলে জানা গেছে। মাসে মোট উৎপাদন প্রায় ৫ থেকে ৫.৫ লাখ পিস।

এই উৎপাদন ও বিক্রির হিসাব অনুযায়ী মাসিক ভ্যাট প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি চালানের মাধ্যমে জমাকৃত ভ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ভ্যাট জমার তথ্য অনুযায়ী—

জানুয়ারি: ১,১০,০০০ টাকা
ফেব্রুয়ারি: ১,০০,০০০ টাকা
মার্চ: ৫৭,৮৬৫ টাকা
এপ্রিল: ১,২০,০০০ টাকা
মে: ১,৩০,০০০ টাকা

প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে এসব পরিমাণ জমা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত তথ্য

একই মালিকানাধীন আরেকটি ইউনিট “তাসনিম আহমেদ” নামীয় প্রতিষ্ঠানেও উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিল অনুযায়ী—

এপ্রিল ২০২৬: ৪,২৫,০০০ টাকা
মে ২০২৬: ৩,৭১,০০০ টাকা

প্রতিষ্ঠানটির মাসিক উৎপাদন কার্যক্রম অনুযায়ী এ ধরনের বিদ্যুৎ বিল নিয়মিতভাবে আসে বলে জানা গেছে।

ঘুষ ও মাসোয়ারা সংক্রান্ত অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডেমরা বিভাগের কিছু কর্মকর্তা মাসিক ভিত্তিতে ঘুষ বা মাসোয়ারা গ্রহণ করেন। এ প্রক্রিয়ায় রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা একরামুজ্জামান জড়িত থাকতে পারেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আয়েশা প্যাকেজিং, কম্পিউটার প্রিন্ট মিডিয়া লিমিটেড, কাই ডিস্ট্রিবিউশন, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, ডিকে ফুটওয়্যার, বিবি কনজিউমার, ইউনিফ্যাক্টিভ কর্পোরেশনসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করা হয়।

এছাড়া ডেমরা এলাকায় অনেক অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে মাসোয়ারা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, যারা নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করেন, তাদের নির্দিষ্ট সময়ে (১৫ তারিখের মধ্যে) অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন স্বচ্ছ ব্যবসায়ী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, অর্থ উপদেষ্টা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।