কাস্টমস পূর্ব কমিশনারকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালে বর্তমান কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পূর্ব কমিশনারেটের কমিশনার জনাব রাশেদুল আলমকে ঘিরে অপপ্রচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেছেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট নারায়ণগঞ্জ কমিশনারেটে সংযুক্তিতে কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর জনাব মাহবুব হোসাইনের মূল কর্মস্থল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পূর্ব কমিশনারেট।
কাস্টমস পূর্ব কমিশনারেট বর্তমান কর্মরত কমিশনার জনাব রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জনাব রাশেদুল আলম পশ্চিম কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অংশগ্রহণ করতে দেননি। এর ধারাবাহিকতায় ব্যক্তিগত সাংগঠনিক ক্ষোভ থেকে আঞ্চলিক কমিটির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাব-ইন্সপেক্টর মাহবুব হোসাইন পূর্ব কমিশনারেট কমিশনার জনাব রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মানহানিকর ও বিভাগীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক ঘুষ লেনদেন গ্রহণের অভিযোগও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে রাশেদুল আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্রমতে, মাহবুব হোসাইন বর্তমানে উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত। তার মূল পোস্টিং পূর্ব কমিশনারেটে হলেও বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস কমিশনারেটে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক পূর্ব কমিশনারেট এর একটি সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা তার নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, মাহবুব হোসাইন একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন ও অসৌজন্যমূলক ভাষায় কথা বলে থাকেন, যা সরকারি বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব হোসাইন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ ঘুষ বাণিজ্য উপার্জন করেন। সমিতির কার্যক্রমের আড়ালে তিনি প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার আয়ের উৎস খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া কিছু সূত্র দাবি করেছে, কাস্টমস ও ভ্যাট-সংশ্লিষ্ট চালান যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে সড়কে যানবাহন আটক করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ সিপাই ও বহিরাগত চক্র জড়িত রয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড কাস্টমস বিভাগ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য সামনে এলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনও সম্পন্ন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

(প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।)