রেমিট্যান্স যোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় স্যালুট বা ভিআইপি মর্যাদা চান না: ডিইউজে সভাপতি

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় স্যালুট বা ভিআইপি মর্যাদা চান না; তারা চান দেশের বিমানবন্দরে একটু সম্মানজনক আচরণ ও হয়রানিমুক্ত সেবা।

আজ ৮ মে, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী কনফারেন্স লাউঞ্জে প্রকাশনা সংস্থা ‘গ্রন্থকানন’ আয়োজিত “রেমিট্যান্স যোদ্ধারা উন্নয়নের অগ্রদূত” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

​​তিনি আরও বলেন,​প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে টাকা অর্জন করে দেশের রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছেন।​তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদেশে যান, অথচ নিজ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হন।

​বিগত সরকারগুলো প্রবাসীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ​তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা একটি গেটের ব্যবস্থা করতে হবে। তারা কোনো বিশেষ আনুকূল্য নয়, বরং নাগরিক হিসেবে নির্বিঘ্নে ও মর্যাদার সাথে দেশে প্রবেশের অধিকারটুকু চান।

​বিশিষ্ট কবি, রম্যলেখক ও গ্রন্থকাননের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান আবদালী-র সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ​উদ্বোধন করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট রফিক সিকদার।​বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোকেয়া আহসান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যাপক সালাম খান।

​সভাপতির বক্তব্যে শাহজাহান আবদালী বলেন,​”১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন, আর আজকের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা দেশকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী করেছেন। এই যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী জাহানারা রেখার সঞ্চালনায় সভায় প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন ​অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার রানু,​মো. সিরাজুল ইসলাম ,​ইঞ্জিনিয়ার সাইদুল ইসলাম খান,​হাজী আব্দুস সোবহান (তিনবার নির্বাচিত সিআইপি),​শাহীন খান (উৎপাদন ব্যবস্থাপক, অলিম্পিক গ্রুপ),​কবির হোসেন সিকদার (বিশিষ্ট সমাজসেবক),​ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম (অর্থ সম্পাদক, প্রবাসী ফাউন্ডেশন),​কাজী নাজিম উদ্দিন সুমন (কবি ও সম্পাদক)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শাহজাহান আবদালী রচিত ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধারা দেশ উন্নয়নের অগ্রদূত’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী জাহানারা রেখা।

​অনুষ্ঠান শেষে রেমিট্যান্সে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে “বঙ্গরত্ন” পদক প্রদান করা হয়।