
ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন বিসিক মানিকগঞ্জের “মেসার্স মারুফ এন্টারপ্রাইজ” নামীয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৮১ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ, তল্লাশি, আটক ও জব্দ করার ক্ষমতা অর্পণ করেছে। পশ্চিম কমিশনারেটের কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দিনের অর্পিত ক্ষমতাবলে নিম্নস্বাক্ষরকারীর তত্ত্বাবধানে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
গঠিত টিমে রয়েছেন-ছবি রানী দত্ত, সহকারী কমিশনার (সদস্য সচিব) মোঃ এমদাদুল হক, রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) মেহেদী হাসান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) বেলাল আহমেদ, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) মোঃ রুহুল আমিন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) মোঃ সিয়াজুল হক, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) মোঃ আব্দুল ওহাব, সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তা (সদস্য) এবং মোঃ শামসুল হক, সিপাই (সদস্য)।
উক্ত টিম অনুচ্ছেদ ১-এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী মারুফ এন্টারপ্রাইজ, বিসিক মানিকগঞ্জে নির্ধারিত সময় ও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, আটক ও জব্দ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিধি ৬১ অনুযায়ী টিমকে অভিযানের প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কমিশনার কর্তৃক অর্পিত এই ক্ষমতা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে-১। মারুফ মশার কয়েল, ২। বিজলি ডিটারজেন্ট, ৩। বিজলি হারপিক, ৪। বিজলি ভীম, ৫। বিজলি হ্যান্ডওয়াশ, ৬। মারুফ ডেইলি মিল্ক চকলেট, ৭। মারুফ ট্যাংক, ৮। লাভা ডিটারজেন্ট, ৯। বিজলি বল সাবান, ১০। মারুফ হলুদের গুঁড়া, ১১। মারুফ সরিষার তেল, ১২। মারুফ হ্যান্ডওয়াশ (বিভিন্ন ধরনের)। এছাড়াও আরও অনেক উৎপাদিত পণ্য রয়েছে।
উক্ত আইটেমগুলোর মধ্যে মারুফ বল সাবান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি ব্যবহারে কাপড় নষ্ট হয়ে যায় বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। এছাড়া জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও অমানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে থাকে।
বিশেষ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব পণ্যের অনেকগুলোর ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর অনুমোদন নেই এবং কাস্টমস ও ভ্যাটের মূল্য অনুমোদনও নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও যথাযথ রেয়াত হিসাবপত্র সংরক্ষণ এবং ভ্যাট ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করে না। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার বিক্রি হলেও তুলনামূলকভাবে ভ্যাট প্রদান করছে না বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেট একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা করেছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘুষ লেনদেনের বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদারকি চলছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, উক্ত আদেশটি ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি সহকারী কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা ছবি রানী দত্ত কর্তৃক স্বাক্ষরিত।















