
ঢাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (১৪ আবদুল গনি রোড) ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই দপ্তরে কর্মরত বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে ২০–২৫ দিনের মধ্যেই মামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, টাকা কম দিলে বা না দিলে সংশ্লিষ্ট ফাইল মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও পড়ে থাকে। এতে ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক মামলার বাদী, যারা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মামলার ফাইলগুলো এলোমেলোভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং বিচার পেতে অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিলুফা আক্তার দীর্ঘ ১০–১২ বছর একই দপ্তরে কর্মরত থেকে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে মামলার তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং কখনও কখনও এজলাসের ভেতরেও তদবির ও অর্থ লেনদেন করেন। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি বোরকা পরিহিত অবস্থায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া, বিভিন্ন মামলার পক্ষ থেকে তদবির বাণিজ্য এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে একই দপ্তরে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন সরকারি কর্মচারী এত দীর্ঘ সময় একই স্থানে কর্মরত থাকেন—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নিলুফার স্বামীও একই দপ্তরে কর্মরত, এবং তার প্রভাবের কারণে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
তবে ট্রাইব্যুনালের ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আচরণ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।















