
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য (কর) জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীতে সরকারি প্লট, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে বিপুল স্বর্ণ এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়ির মালিক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে একটি অনুসন্ধানে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা ও পূর্বাচলে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামে সরকারি প্লট পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট নেওয়া এবং পরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজউকের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটের তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য এখনো এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে কর প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে কর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় জিয়াউদ্দিন মাহমুদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। তার দুই ছেলে ওই দুই দেশে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিয়াউদ্দিন মাহমুদের স্ত্রীর প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। ওই স্বর্ণের একটি অংশ দিয়ে তাঁতিবাজার থেকে গোল্ডবার তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রাজধানীতে সরকারি প্লটের পাশাপাশি তার নামে-বেনামে আরও সম্পত্তি থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে পরিচয়ে এক ব্যক্তি অনুসন্ধানী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে হুমকি দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।















