প্রাইভেট ব্যাংকের এমডির বেতন ৩০ লাখ, গভর্নরের মাত্র ৮২ হাজার!

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাত যখন খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও সুশাসনের নানা প্রশ্নে আলোচনায়, তখন বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের এমডির মাসিক বেতন ৩০ লাখ টাকারও বেশি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মূল বেতন মাত্র ৮২ হাজার টাকা হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডিরা বছরে কয়েক কোটি টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে মাসিক গড় বেতন ৩০ থেকে ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে। এসব বেতন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্ধারণ করে থাকে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক নীতিনির্ধারক হলেও তাঁর সরকারি বেতন কাঠামো তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের বেতন বৈষম্য নিয়ে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন দেওয়া হলেও, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পারিশ্রমিক এত কম হওয়া নীতিগত প্রশ্ন তৈরি করে। তারা মনে করছেন, দায়িত্ব, জবাবদিহি ও আর্থিক খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন নির্ধারণের কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় দুই খাতের পারিশ্রমিকের সরাসরি তুলনা সবসময় যথাযথ নাও হতে পারে। তবুও দুই খাতের শীর্ষ পদে পারিশ্রমিকের বিশাল ব্যবধান জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।