
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন-বাণিজ্য এবং অর্থপাচারের নানা অভিযোগ নিয়ে রাজস্ব প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে তার একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরা ও ডিওএইচএস এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে কয়েকটি প্লট এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের তথ্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে সম্পদ গড়া ও অর্থ পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত নানা অনিয়মে সুবিধা দেওয়া, বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। এসব অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার ওপরই বর্তায়।
রাজস্ব খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম পরিষ্কার করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।















