
গাজীপুর কর কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত এক অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারের বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিকানা গড়ে উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে হলেও তিনি দীর্ঘ সময় গাজীপুর কর কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি জীবনে প্রভাব ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, গাজীপুরের ছায়াবিথী এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন, চৌরাস্তা এলাকায় আবাসিক সম্পত্তি, ঢাকার উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লটসহ বিভিন্ন সম্পদ তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো সরকারি নথি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ ও উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
একই সঙ্গে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনাম রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পদের উৎস, আয়কর নথি ও সম্পত্তির কাগজপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তে যদি অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দ, চাকরিগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের রায় অনুযায়ী দণ্ডের ব্যবস্থা হতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং তার মর্যাদা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।














