
দেশের রাজস্ব শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকলেও, ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটের কিছু কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বিসিক এলাকায় অবস্থিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মারুফ এন্টারপ্রাইজ সংক্রান্ত একটি সুসংগঠিত রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ বাণিজ্যের চক্রের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি মারুফ মশার কয়েল, বিজলী ডিটারজেন্ট, বিজলী হারপিক, বিজলি বল সাবান, বিজলী লাভ ডিটারজেন্ট, মারুফ ট্যাংক, বিজলি হ্যান্ডওয়াশ, মারুফ ডেইলি মিল্ক চকলেটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্রির বিপুল আয় থেকে সরকারকে আদায় হওয়া রাজস্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ কোষাগারে জমা পড়ছে না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটের এক সিপাই আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট হিসাব-নিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অনলাইনে নথিপত্র দাখিলের মাধ্যমে রাজস্ব কম দেখানো এবং ঘুষের বিনিময়ে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে। এনবিআর কর্তৃক বদলির আদেশ সত্ত্বেও তিনি নিজের পদে বহাল থেকে ঘুষ বাণিজ্য কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের ধারণা, আব্দুর রহমানের উপার্জিত বিপুল অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিতরণ হয়, যার ফলে পুরো ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। এছাড়া অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন তা গ্রহণ না করে নিজের কাছে রেখেছেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবং জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার না করলে ভবিষ্যতে অনিয়ম আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত কার্যকর তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশের রাজস্ব খাতকে সুরক্ষিত করবে।















