
ঢাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, ১৪ আবদুল গনি রোড—যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার কথা, সেই স্থানেই উঠেছে ঘুষ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই দপ্তরে কর্মরত বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) নিলুফা আক্তারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যা মামলার তারিখ নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত মামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়—কখনও এক মাসের মধ্যেই। বিপরীতে, টাকা কম দিলে বা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বিচারপ্রাপ্তিকে জটিল করে তুলছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মামলার নথিপত্র অগোছালোভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গোপনে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নিলুফা আক্তার প্রায় ১০–১২ বছর একই দপ্তরে কর্মরত থেকে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার নেতৃত্বে তৃতীয় শ্রেণীর কিছু কর্মচারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মামলার তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি এজলাসের ভেতরেও অর্থ লেনদেন ও তদবির চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক সময় তিনি কৌশলে বোরকা পরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তদবির বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে একাধিক সূত্রে। তৃতীয় শ্রেণীর কিছু কর্মচারীর আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা সেবা প্রত্যাশীদের জন্য অপমানজনক ও হতাশাজনক অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীরা পেশাদার, সহানুভূতিশীল এবং ন্যায়নিষ্ঠ। তাদের ভূমিকা এখনো বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখতে সহায়ক।
একই দপ্তরে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, যাতে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি ও অনিয়মের শিকার না হন।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে মামলার দ্রুত তারিখ নির্ধারণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।















