
মোঃ মাহাবুবুর রহমান: মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে মোংলা কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কাস্টমস কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডলার, হুইস্কি ও সিগারেট আদায় করেন ওই কর্মকর্তা। পরে এসব সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগও তোলেন তাঁরা। এ ছাড়া জাহাজের আগমনসংক্রান্ত তথ্য ও ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইজিএম শাখায় অনিয়ম, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অনৈতিক সুবিধা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বৈধ পণ্য খালাস করতে আসা ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপ চ্যান্ডলারদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
খুলনার মেয়র আবদুল খালেকের প্রভাব খাটিয়ে মোংলা কাস্টমসের ওই কর্মকর্তা অনিয়ম করছেন—এমন অভিযোগ তুলা হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সরকারের রাজস্ব আয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বন্দরের সুনাম ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শিপিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, নুরউদ্দিন টুটুল, কামাল হোসেন, মো. শামীম, মো. ইউসুফ, মো. সেলিম, মো. মামুন ভূঁইয়া, মো. সুমন মল্লিক, মো. আল-আমিন, মো. বেল্লাল হোসেন, মো. মহসিন পাটোয়ারী, মো. সোহাগ ও মো. রাজ বাপ্পা। বক্তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান।
পরে ব্যবসায়ীরা মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর কাছে স্মারকলিপি দেন। এতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামাল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















