চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসকে ঘিরে ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে, বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, পণ্য খালাসে জটিলতা সৃষ্টি এবং সিএন্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক ও স্বচ্ছ থাকার পরও পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে ঘুষ আদায় করা হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা এবং সিএন্ডএফ মালিক ও কর্মচারীদের হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী অনেকেরই দাবি, সুমন কান্তি বিশ্বাস পূর্বে ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীনও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, করোনা মহামারির সময়সহ বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

অভিযোগকারীদের দাবি, সুমন কান্তি বিশ্বাসের নামে-বেনামে ঢাকার মিরপুরে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি এবং তাঁর নিজ জেলা বাগেরহাটে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়া, তাঁর পরিবারের নিয়মিত ভারত যাতায়াত এবং সেখানে সম্পত্তি থাকার বিষয়েও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ভারতে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের কয়েকজন তাঁর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সুমন কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর নামে কোনো সম্পত্তি নেই বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তিগুলো তাঁর বাবার নামে রয়েছে।

সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী সংখ্যায় দৈনিক বর্তমান গোয়েন্দা ডায়রি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা জানানো হয়েছে।