
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের আমলে প্রতিহিংসামূলকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যা বিধি-বিধান মোতাবেক না হওয়ায় কাস্টমস, ইনকাম ট্যাক্স, এমনকি একজন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মচারীকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঐক্য পরিষদ আন্দোলন এ ঘটনায় বিগত ১৮ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬-এ যোগদান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সম্মেলন থেকেও ভুক্তভোগীরা দাবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান এ ঘটনার বিষয়কে কেন্দ্র করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন। সে প্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধারাবাহিকভাবে ২৬-২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন বাতিল করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, আহসান হাবিবের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এখনো অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সাবেক সিনিয়র সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, যেহেতু ২৬-২৭ জনের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে, সেহেতু অন্য যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁদেরও হওয়ার কথা। বিশেষ সূত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, লোকমান আহমেদ, কর পরিদর্শক; মোঃ সালেক খান, কাস্টমসের কর্মচারী এবং আব্দুর রহিম হাওলাদার রানা—এঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে আবেদন করেছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর জানামতে, সেই আবেদন এসেছে এনবিআরে তাঁদের তো প্রজ্ঞাপন বাতিল হওয়ার কথা।
বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা দীর্ঘদিনের চাকরির অভিজ্ঞতা, সততা ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে চাকরি করে আসছিলেন। সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এ ধরনের মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটিয়েছেন। এমনকি বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের স্বাক্ষরিত বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাধ্যতামূলক অবসরের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেন রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। এ ধরনের একটি সমস্যার সমাধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখনো কয়েকজন বাকি রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ন্যায় সঙ্গত বৈষম্য যাহাতে না থাকে সে ব্যবস্থা নিবেন অনেকে ব্যক্ত করেন।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় আসবে এবং এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান অনুসারে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিজীবনের শেষ সময়ে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য তাঁদের পুনর্বহালের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একাধিক সংশ্লিষ্ট মহল।















