
বেতনের টাকা থেকে মাসোহারা ও মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেয়ায় এক গেটকিপারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সামান্য বেতনে চাকরি করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের অস্থায়ী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে বিভাগের অন্য দুই কর্মচারীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে ২ হাজার ২৫০ টাকা করে মাসোহারা দিতে হতো তাকে। কিন্তু সম্প্রতি বেতন বাড়ার অজুহাতে তার কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এই বাড়তি টাকা দিতে আপত্তি জানালেই বাধে বিপত্তি।
গেটকিপার তৌফিকুর রহমানের অভিযোগ, তার মতো ভৈরব-আঠারবাড়ী রুটে দায়িত্ব পালন করা অস্থায়ী গেটকিপারদের প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে টাকা দিতে হয়। একই বিভাগের হেড মিস্ত্রি উজ্জ্বল ও গেটকিপার সাদিকুরের মাধ্যমে এই মাসোহারার টাকা আদায় করা হয়।
তিনি জানান, গত এপ্রিলে মাসিক চাঁদা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে আপত্তি জানালে বিনা কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, চাকরি ফিরে পেতে অনুরোধ জানালে তার কাছে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই প্রকৌশলী।
এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে গত ১১ মে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে চাকরি হারানোর ভয়ে অন্য গেটকিপাররা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী জেরীন।
চাঁদা দাবি ও চাকরিচ্যুতির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ ছাড়াও নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জুলহাস। এ কারণে কিশোরগঞ্জ অফিসে তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় না।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেলপথে মোট ৬৯ জন গেটকিপার রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত।















