
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও প্রশাসনিক বিতর্ক ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চুক্তিভিত্তিক রাখার জন্য একটি অসাধুচক্র উঠে পড়ে লেগেছে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতিতে আর্থিক লেনদেন কর্মকর্তা কর্মচারীকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, এনবিআরের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সুবিধা গ্রহণে জড়িত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যানকে চুক্তিভিত্তিকভাবে পদে বহাল রাখার বিষয়ে একটি বিশেষ মহল সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে একই বিতর্কিত ব্যক্তির নেতৃত্ব থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে এনবিআরের মত প্রতিষ্ঠানের মান সম্মানের জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যদি তদন্ত ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিহিংসা ঝুলে থাকবে। তাহলে তা একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে এনবিআর বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।















