
নিজস্ব প্রতিবেদন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ ও সমালোচনার আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার আশপাশে অবস্থানরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বদলি, পদোন্নতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম এবং তদবির বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন।
বিশেষ সূত্রের দাবি, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, এয়ারপোর্ট কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন কাস্টমস, ভ্যাট কমিশনারেট এবং আয়কর বিভাগে বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্র ঘুষ ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে আসছে। এবং অসাধু ব্যবসায়ী মহল থেকে ঘুষ বাণিজ্য চলমান রয়েছে-
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এনবিআরের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের দাবি, চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান টানা তিনটি সরকারের আমলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে একই প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সম্পদের উৎস ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা উচিত।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০২৬ সালের জুন মাসে চেয়ারম্যানের চাকরির বয়সসীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কিছু অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সমালোচকদের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তারা মনে করেন, দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার স্বার্থে সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সুশাসনকামী মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।















