
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি করা একটি চালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। কাস্টমসের দাবি, এসব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানিকারকের পরিচয় ব্যবহার, নথিপত্রে অসঙ্গতি এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে এই জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়েছে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি চীনের সাংহাই থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চার কার্টন পণ্য দেশে আসে। ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে ‘এমআর জুনাইনা খান’-এর নাম উল্লেখ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে বিমানবন্দরের আমদানি কাগো কমপ্লেক্সে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালায় কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ টিম ও এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট। পরীক্ষায় দেখা যায়, ‘হ্যান্ড ট্যাগ, প্রাইজ লেবেল ও ওভেন লেকো স্যাম্পল’ হিসেবে ঘোষিত চারটি কার্টনের প্রতিটিতে ২ লাখ ৪০ হাজার পিস করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল সিগারেট স্ট্যাম্প রয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, চালানটির বিপরীতে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) যাচাই করে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জুনাইনা খানের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চালান আমদানির পর একই পরিচয়ে আরো ১২টি চালান দেশে আনা হয়েছে। তবে এসব চালানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তদন্তে বিভিন্ন নথিতে ধতে আমদানিকারকের দোনিকারকের তথ্য তথ্য নিয়ে নিয়ে অসঙ্গতিও অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বিএইআই এক্সপ্রেস লিমিটেডের দাখিল করা মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও এয়ারওয়ে বিলে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যক্তি হিসেবে জুনাইনা খানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমসের ধারণা, কুবিয়ার প্রতিষ্ঠান ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নকল স্ট্যাম্প আমদানির চেষ্টা করা হয়েছে। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হতো। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী সিগারেটের স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল কেবল বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন থেকে সপ্তাহ করা যায়। বিদেশ থেকে এ ধরনের স্ট্যাম্প আমদানির কোনো বৈধ সুযোগ নেই। ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কাস্টমস আইন, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শেষে
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলেন, অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমসের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষা ও বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















