
রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১৪-তে কর্মরত বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১, ২ ও ৩-এ বিচারপ্রার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে মামলার তারিখ অযথা বিলম্বিত করা হয়, আর অর্থ প্রদানকারীদের ক্ষেত্রে দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এছাড়া মামলার নথিপত্র ব্যবস্থাপনায়ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এলোমেলোভাবে সংরক্ষণ, সময়মতো খুঁজে না পাওয়া, এমনকি নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ট্রাইব্যুনাল-১, ২ ও ৩-এ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বদলি প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মামলার ক্ষতির আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে বছরের পর বছর ধরে মামলার জট ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।















